Showing posts with label ধর্ম ও জীবন. Show all posts
Showing posts with label ধর্ম ও জীবন. Show all posts

হস্তমৈথুনের কারণে কি রোজা ভঙ্গ হবে ?

হস্তমৈথুনের কারণে কি রোজা ভঙ্গ হবে ?


 হস্তমৈথুনের কারণে কি রোজা ভঙ্গ হবে ?

হস্তমৈথুন (কু অভ্যাস) রোজা ভঙ্গের কারণ। যে ব্যক্তি হস্তমৈথুন করেছে তাকে সেদিনের রোজা কাযা করতে হবে এবং এই মহাপাপ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।

শাইখ বিন বায (রহঃ) বলেন:

কেউ যদি রোজার দিন ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তমৈথুন করে এবং বীর্য বের হয় এতে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদি এ রোজাটি ফরজ রোজা হয়ে থাকে তাহলে তাকে এ রোজা কাযা করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। কারণ রোজা রাখা বা রোজা না-রাখা কোন অবস্থাতেই হস্তমৈথুন করা জায়েয নয়। লোকেরা এটাকে কু-অভ্যাস বলে থাকে। সমাপ্ত [ফাতাওয়াস শাইখ বিন বায, (১৫/২৬৭)]

শাইখ ইবনে উছাইমীন বলেন:

“যদি রোজাদার ব্যক্তি হস্তমৈথুন করে এবং বীর্যপাত হয় তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। যেদিন হস্তমৈথুন করেছে তাকে সেদিনের রোজা কাযা করতে হবে। তবে তাকে কাফফারা দিতে হবে না। কারণ কাফফারা শুধু সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করলে সেক্ষেত্রে ফরজ হয়। তাকে তার কৃতপাপের জন্য তওবা করতে হবে।” সমাপ্ত [ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃষ্ঠা-৪৭৮]

উপরোক্ত হুকুম প্রযোজ্য হবে যদি হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত হয়। আর যদি বীর্যপাত না হয় তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

শাইখ উছাইমীন ‘আল-শারহুল মুমতি’ গ্রন্থ (৬/৩৮৮) এ বলেন:

যদি হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত না হয় তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। আল্লাহই ভাল জানেন।

রোজা রেখে সারা দিন ঘুমানো কি ঠিক?

রোজা রেখে সারা দিন ঘুমানো কি ঠিক?
রোজা রেখে সারা দিন ঘুমালে বেশি ক্লান্তি অনুভব করবেন।
রোজা নিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য-ভাবনার শেষ নেই। রোজার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের মনে থাকে নানা চিন্তা, প্রশ্ন। এমন কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো আজ।

অনেকে রোজার সময় সারা দিন ঘুমান—এটা কি স্বাস্থ্যসম্মত?

মোটেই না। এভাবে ঘুমালে আপনার শরীরের কোষগুলো অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়বে। এতে বেশি ক্লান্তি অনুভব করবেন আপনি; বরং ইফতারের পরে বিশ্রাম নেওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত। একজন সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। এ ঘুমের জন্য আপনি ইফতার ও সেহরির পরের সময়টুকু কাজে লাগাতে পারেন। তা ছাড়া দিনের বেলা ঘুমালে রাতে নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়। সে সঙ্গে জড়ো হয় স্বাস্থ্যগত আরো সমস্যা।

যাঁরা ওষুধ খাচ্ছেন, রোজার সময়ে তাঁরা কী করবেন?

রোজার সময়ে ওষুধ কোনো সমস্যা নয়। চিকিৎসককে বলে ওষুধের মাত্রা ঠিক করে নিলেই হলো। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে জীবন বাঁচানোর স্বার্থে রোজা রাখার পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে। অন্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধের মাত্রা ঠিক করে নিলে রোজা রাখতে কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হবে না।

দিনের শেষে মাথাব্যথা করলে ইফতারের সঙ্গে সঙ্গেই কি ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে?

মূলত মাথাব্যথা করলে ইফতারের সঙ্গে সঙ্গেই ব্যথানাশক ওষুধ, যেমন—এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম খাওয়া উচিত নয়। কিছু খেয়ে তার পর এসব ওষুধ খেতে হবে। যাঁদের পেপটিক আলসারের ইতিহাস আছে, তাঁরা অ্যান্টাসিড ও রেনিটিডিন খেয়ে এসব ওষুধ খাবেন। নতুবা মাথাব্যথা সারাতে গিয়ে আপনাকে পড়তে হবে বড় সমস্যার মুখে।

রোজা রেখে সারা দিন ঘুমানো কি স্বাস্থ্যসম্মত?

মেয়েরা ভুলেও যেসব ছেলের প্রেমে পড়ে না!

মেয়েরা ভুলেও যেসব ছেলের প্রেমে পড়ে না!


 
 মেয়েরা ভুলেও যেসব ছেলের প্রেমে পড়ে না!
মানুষ একাকী বাস করতে পারে না তাই সে সঙ্গী চায়। তাইতো সঙ্গী বাছায়ের ক্ষেত্রে থাকতে হয় সতর্ক, যাতে করে সেই সম্পর্ক টিকে থাকে চিরদিন। শুধু ভালো মানুষ নয়, সঙ্গী হিসেবে ভালো হতে হলে একজন পুরুষের মাঝে থাকতে হয় কিছু গুণ। এসব গুণ যদি আপনার ভালোবাসার মানুষটির মাঝে না থাকে তাহলে আগেই সাবধান!তাই আগে থেকেই জেনেবুঝে প্রেম করুন।

কোন ছেলেদের প্রেমে পড়লে ঠকবেন তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণে।

•    যেসব ছেলে মেয়েদের মতো আয়নার সামনেই বেশি সময় কাটায় তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। এরা সব সময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আপনার কথা ভাবার সময় এদের নেই। আর সে আপনার প্রশংসা করা তো দূরের    কথা, নিজেকে জাহির করার জন্য সব সময় ব্যস্ত থাকবে।

•    যে মানুষ কথায় কথায় আপনাকে সন্দেহ করে, তার সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন সম্পর্কে জড়াবেন না। কারণ সম্পর্কে জড়ালে সে আপনাকে কারণে অকারণে সন্দেহ করবে। ফোন ওয়েটিং কেন? এত দেরি হলো কেন আসতে? কার সঙ্গে কথা বলছো? - এমন হাজারটা প্রশ্ন প্রতিদিনই আপনাকে শুনতে হবে। তাই এসব ছেলেকে মেয়েরা অনেকটাই এড়িয়ে চলে।

•    যে ছেলে চাইবে প্রতিনিয়তই আপনি তার কাছে থাকবেন, তার খোঁজখবর নেবেন তাহলে আপনার নিজস্বতা বলতে কিছুই থাকবে না। আপনি বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও গেলে, অথবা কলিগদের সঙ্গে আড্ডা দিলে সে যদি বিরক্ত হয় তাহলে ধরে নেবেন সে কখনোই আপনাকে সুখী করবে না।

•    যে আপনার সব আচরণেই ভুল ধরে, এই যেমন আপনার চুলের স্টাইল ঠিক না, কথা বলার ধরন ঠিক না, এমন মানুষের প্রেমে পড়বেন না। কারণ যে আপনার সবকিছুকেই ভুল ভাবে সে আপনার ভালোবাসাকেও ভুল ভাববে।

•    যে কথায় কথায় আপনার অতীত নিয়ে কথা শোনায় সে কখনোই ভালো মানুষ হতে পারে না। তাকে আপনি বিশ্বাসও করতে পারবেন না। কারণ বিশ্বাস করে কিছু বললে সে পরবর্তীকালে আপনাকে আবারও কথা শোনাবে।এসব মানুষ জীবনসঙ্গী হিসেবে কখনোই ভালো হয় না।

•    যে ছেলে আপনার পেছনে নিজের টাকা খরচ করতে চায় না তাকে ভুলেও ভালোবাসবেন না। কারণ এমন অভ্যাস থাকলে সারা জীবনই তার কাছে টাকার জন্য আপনাকে নির্ভরশীল থাকতে হবে এবং চাওয়ার পরও সে আপনার আর্থিক প্রয়োজন পূরণ করবে না।

রমজান মাসে সহবাস করা কি ঠিক?

রমজান মাসে সহবাস করা কি ঠিক?

রমজান মাসে সহবাস করা কি ঠিক?
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে”। [আল-বাকারাঃ ১৮৭] এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে রোজার দিনে সহবাস হালাল করা হয়নি।

রমজান মাসে দিনের বেলায় যে ব্যক্তি যৌনমিলন করে তিনি মুকীম (নিজ অঞ্চলে অবস্থানকারী) রোযাদার হলে তার উপর বড়-কাফ্‌ফারা (আল কাফ্‌ফারাতুল মুগাল্লাযাহ) ওয়াজিব হয়। আর তা হল একজন দাস মুক্ত করা। যদি তা না পায় তাহলে একাধারে দুইমাস সিয়াম পালন করা। আর যদি তাও না পারে তবে ৬০ জন মিসকীনকে খাওয়ানো।

যদি নারী সন্তুষ্টচিত্তে যৌনমিলনে সাড়া দেয় তাহলে একই বিধান নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর যদি জোরপূর্বক নারীর সাথে সহবাস করা হয় তাহলে তার উপর কোন জরিমানা ওয়াজিব হবে না। আর যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মুসাফির হয় তবে সহবাসের কারণে তাদের কোন গুনাহ হবে না, তাদের উপর কোন কাফ্‌ফারাও ওয়াজিব হবে না এবং দিনের বাকি অংশ পানাহার ও যৌনমিলন থেকে বিরত থাকাও ওয়াজিব হবে না। শুধু তাদের উভয়কে ঐদিনের রোযা কাযা করতে হবে। যেহেতু মুসাফির অবস্থায় রোযা পালন করা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

একইভাবে যে ব্যক্তি কোনো অনিবার্য প্রয়োজনে রোযা ভেঙ্গে ফেলেছে (যেমন কোন নিরপরাধ মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর নিমিত্তে) ঐ ব্যক্তি সেই দিন যদি যৌনমিলন করে, যেইদিন অনিবার্য প্রয়োজনে রোযা ভেঙ্গে ফেলেছে তবে তার উপর কোন কিছু ওয়াজিব হবে না। কারণ এক্ষেত্রে সে ব্যক্তি কোন ওয়াজিব রোযা ভঙ্গ করেনি।

রমজান মাসে স্ত্রী সহবাস নিয়ে ইসলামী বিধান। রোজায় যে জিনিসগুলো থেকে বিরত থাকতে হয় তার মধ্যে একটি হচ্ছে যৌন সম্পর্ক বা সহবাস। কেউ যদি এই কাজটি রোজার দিন করে বসে তবে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এর প্রমাণ হচ্ছে সূরা বাকারাতে আল্লাহ্‌র বক্তব্যঃ “রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে”। [আল-বাকারাঃ ১৮৭] এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে রোজার দিনে সহবাস হালাল করা হয়নি।

কোনো স্বামী যদি জোর করে স্ত্রীর সাথে যৌনসম্পর্ক করেন সেক্ষেত্রে স্বামীর রোজা ভেঙ্গে গেলেও স্ত্রীর রোজা ভাঙবে না। এর কারণ আমরা আগে উল্লেখ করেছি। আল্লাহর রাসূল (সা.) ইবন ‘আব্বাস বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ আমার উম্মতের ওপর থেকে ত্রুটিবিচ্যুতি, ভুলে যাওয়া ও জোর করিয়ে করানো কাজকে মার্জনা করেছেন”। [প্রসঙ্গত আজকাল যেহেতু খবর পাওয়া যাচ্ছে নারীরা জোর করে পুরুষদের বিয়ে করছেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের জন্য অনুরূপ ফিকহি আলোচনা করতে হতে পারে।]

যৌন সম্পর্ক বলতে শরিআর ভাষায় বোঝানো হচ্ছে পুরুষাঙ্গের সাথে স্ত্রী-অঙ্গের মিলন। এক্ষেত্রে বীর্যপাত শর্ত নয়। অর্থাৎ এই দুই অঙ্গ সংস্পর্শে আসলেই রোজা ভেঙ্গে যাবে, বীর্যপাতের ঘটনা না ঘটলেও। শায়খ সালেহ ইবন আল-‘উসায়মীন এই মতটিই ব্যক্ত করেছেন। যৌন মিলনের দ্বারা কেউ রোজা ভাঙলে সেই রোজা পরবর্তীতে কাযা করতে হবে এবং “ভারী কাফ্ফারা” দিতে হবে। সেই প্রসঙ্গ পরে আসছে।

শারীরিক স্পর্শ বা চুম্বন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কামনাবসত শারীরিক স্পর্শ যেমন fondling বা foreplay অথবা স্রেফ চুমুর কারণে রোজা ভাঙবে না। তবে এর ফলে যদি বীর্যপাত ঘটে সেক্ষেত্রে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তাই রোজার সময় এগুলো পরিহার করাই উত্তম। চুম্বন যদি কামনাবশত না হয় সেক্ষেত্রে ক্ষতি নেই।

স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বীর্যপাত ঘটানো যদি কেউ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজের বীর্যপাত (ejaculation) ঘটান সেক্ষেত্রে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। যেমন নিজে হস্তমৈথুনের (masturbation) মাধ্যমে অথবা স্ত্রী কর্তৃক হস্তমৈথুনের মাধ্যমে যদি বীর্যপাত ঘটে তাহলে রোজা ভাঙবে। কোনো ব্যক্তি যদি যৌনউত্তেজক কোনো কিছু দেখে, শোনে বা পড়ে – এক্ষেত্রে বীর্যপাত ঘটলে তার রোজা ভাঙবে। এক্ষেত্রে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে করা কোনো কাজের ফলে বীর্যপাত ঘটলে রোজা ভাঙবে।

এভাবে রোজা ভেঙ্গে গেলে কাযা করাই যথেষ্ট, যৌনমিলনের ক্ষেত্রে যে ভারী কাফ্‌ফারা দিতে হয় সেটি দিতে হবে না। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঘটানো বীর্যপাতের ফলে যে রোজা ভাঙবে তার প্রমাণ হচ্ছে হাদীস কুদসীতে আল্লাহ বলছেনঃ “সে (বান্দা) আমার জন্যই খাদ্য, পানীয় ও কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করে”। [বুখারী] যুক্তিসংগত কারণেই যে ব্যক্তি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বীর্যপাত ঘটায় সে কামনা-বাসনা বা “শাহওয়াহ” পরিত্যাগ করল না। তবে বীর্যপাত যদি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে না হয় সেক্ষেত্রে রোজা ভাঙবে না। যেমন স্বপ্নদোষের (wet dream) ফলে রোজা ভাঙবে না। কোনো ব্যক্তির চিন্তায় যদি আচমকা কোনো যৌন ভাবনা এসে উদয় হয় বা কোনো যৌন উত্তেজক চিন্তা চলে আসে যা সে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মাথায় আনেনি এবং এর ফলে যদি বীর্যপাত ঘটে সেক্ষেত্রে রোজা ভাঙবে না।

মাযী ও মানীর মাঝে পৃথকীকরণ বীর্যপাত প্রসঙ্গে আমাদের দুটি তরলকে আলাদা করতে হবে। এদের একটি হচ্ছে মাযী (المذي)। মাযী হচ্ছে যেটিকে ইংরেজিতে বলা হয় pre-seminal fluid। এটি একটি স্বচ্ছ পিচ্ছিল পদার্থ যা চূড়ান্ত বীর্যপাতের আগে নিঃসরিত হয় ফোঁটায় ফোঁটায়। মাযী নিঃসরণের ফলে রোজা ভাঙে না (যদি না সেটা যৌনমিলনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের সাথে যোনির মিলনই যথেষ্ট রোজা ভাঙার জন্য)। শুধু মাযী নিঃসরণের ফলে যেহেতু রোজা ভাঙে না, কাযারও প্রশ্ন আসছে না।

যদিও ইমাম মালেকের একটি বর্ণনা অনুযায়ী তিনি মাযী নিঃসরণকে রোজা ভাঙার কারণ হিসেবে দেখেছেন, কিন্তু অধিকাংশ ‘উলামা একে রোজা ভাঙার কারণ হিসেবে দেখেন না। মানী হচ্ছে যাকে ইংরেজিতে বলা হয় semen বা বাংলায় বীর্য। মানী বের হয়ে আসে চূড়ান্ত বীর্যপাতের সময় দফায় দফায়। এটির সাদা থিকথিকে একটি পদার্থ। মানী বের হলেই কেবল রোজা ভাঙবে উপরেল্লিখিত কারণগুলোতে।

নামাজ না পড়ে শুধু রোজা রাখলে কি রোজা হয়?

নামাজ না পড়ে শুধু রোজা রাখলে কি রোজা হয়?
                               
                               নামাজ না পড়ে শুধু রোজা রাখলে কি রোজা হয়?
 অনেকেই নামাজ আদায় করে না। কিন্তু রমজান মাস আসলে ঠিকই রোজা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো যারা নামাজ না পড়ে শুধু রোজা পালন করে, তাদের রোজা কবুল হবে কিন। চলুন বুখারী শরীফ এবং মুসলীম শরীফের আলোকে জেনে নিই।
আরও পড়ুন : ইসলামে ধর্মে শুকরের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ

বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

( مَنْ تَرَكَ صَلاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ )

“যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।” [ বুখারী – ৫২০ ]

“তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়” এর অর্থ হল: তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা তার কোনো কাজে আসবে না। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, বেনামাজির কোনো আমল আল্লাহ কবুল করেন না এবং বেনামাজি তার আমল দ্বারা কোন ভাবে উপকৃত হবে না। তার কোনো আমল আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে না।
আরও পড়ুন : জিভের রঙ দেখে কি করে বুঝবেন , আপনি কোন রোগে আক্রান্ত ?

ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘আস-স্বালাত’ নামক গ্রন্থের ৬৫ পৃষ্ঠায় এ হাদিসের মর্মার্থ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন–

বেনামাজি ব্যক্তি দুই ধরণের-
(১) পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা। কোন নামাজই না-পড়া। এ ব্যক্তির সমস্ত আমল বিফলে যাবে।
(২) বিশেষ কোন দিন বিশেষ কোন নামাজ ত্যাগ করা। এক্ষেত্রে তার বিশেষ দিনের আমল বিফলে যাবে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে সালাত ত্যাগ করলে তার সার্বিক আমল বিফলে যাবে। আর বিশেষ নামাজ ত্যাগ করলে বিশেষ আমল বিফলে যাবে।” ।

“ফাতাওয়াস সিয়াম” (পৃ-৮৭) গ্রন্থে এসেছে শাইখ ইবনে উছাইমীনকে বেনামাযীর রোজা রাখার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো তিনি উত্তরে বলেন:

“বেনামাযীর রোজা শুদ্ধ নয় এবং তা কবুলযোগ্য নয়। কারণ নামায ত্যাগকারী কাফের, মুরতাদ।”
আরও পড়ুন : বিনা দাওয়াতে ৩৭৮ টি বিয়ে খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড করলেন ইডেন কলেজের দুই ছাত্রী!

এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে-

আল্লাহ্ তাআলার বাণী:

[ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ][ التوبة : 11]

“আর যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয় তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই।” [ সূরা তওবা: ১১]

নবী ﷺ এর বাণী:

( بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاةِ ) رواه مسلم (82)

“কোন ব্যক্তির মাঝে এবং শির্ক ও কুফরের মাঝে সংযোগ হচ্ছে সালাত বর্জন।”[ সহিহ মুসলিম ৮২]

এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী –

( الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ الصَّلاةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ ) (رواه الترمذي (2621) . صححه الألباني في صحيح الترمذي)

“আমাদের ও তাদের মধ্যে চুক্তি হলো নামাযের। সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।”

[জামে তিরমিযী (২৬২১), আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলে চিহ্নিত করেছেন]

এই মতের পক্ষে সাহাবায়ে কেরামের ‘ইজমা’ সংঘটিত না হলেও সর্বস্তরের সাহাবীগণ এই অভিমত পোষণ করতেন।

প্রসিদ্ধ তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনে শাক্বিক রাহিমাহুমুল্লাহ বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরি মনে করতেন না।”

পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি রোজা রাখে; কিন্তু নামায না পড়ে তবে তার রোজা প্রত্যাখ্যাত, গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা কেয়ামতের দিন আল্লাহ্র কাছে কোন উপকারে আসবে না। আমরা এমন ব্যক্তিকে বলবো: আগে নামায ধরুন, তারপর রোজা রাখুন। আপনি যদি নামায না পড়েন, কিন্তু রোজা রাখেন তবে আপনার রোজা প্রত্যাখ্যাত হবে; কারণ কাফেরের কোন ইবাদত কবুল হয় না।”

রমজানে শয়তানকে বেঁধে রাখার পরও মানুষ কেন এ মাসে খারপ কাজ করে?

রমজানে শয়তানকে বেঁধে রাখার পরও মানুষ কেন এ মাসে খারপ কাজ করে?

   
রমজানে শয়তানকে বেঁধে রাখার পরও মানুষ কেন এ মাসে খারপ কাজ করে?


ইসলাম ডেস্ক : রমজান মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত এবং বরকতের মাস। এই মানে মহান আল্লাহ তার বান্দার জন্য শয়তানকে আটকিয়ে রাখেন যাতে শয়তান মানুষকে কোনো রকমের খারাপ কাজের দিকে আহ্বান করতে না পারে। এই প্রসঙ্গে হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إذا جاء رمضان فتحت أبواب الجنة، وغلقت أبواب النار، وصفدت الشياطين.

অর্থ : যখন রমযান মাসের আগমন ঘটে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।-সহীহ বুখারী, হাদীস-১৮৯৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস-১০৭৯ (১), মুসনাদে আহমদ হাদীস-৮৬৮৪, সুনানে দারেমী, হাদীস-১৭৭৫

শয়তানকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার


কারণ হলো, শয়তান যাতে করে নেক বান্দাদের ধোঁকা দিতে না পারে। মানুষ যাতে করে একাগ্রচিত্তে এক আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল হতে পারে। ইবারদাতের সময় মানুষ যাতে করে শয়তানের কোনো প্রকার ধোকার মাঝে না পরে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকতে পারে শয়তানকে বেঁধে রাখার পরও রমজান মাসে মানুষ কেন পূর্বের ন্যায়ে সেসব কাজ করেন?

এই প্রশঙ্গে বর্ণনায় এসেছে, দীর্ঘ এগারো মান মানুষ শয়তানের অনুস্বরণ করতে করতে এ একটি মাস তা থেকে বিরত থাকতে পারেনা। সুতরাং এমাসে শয়তানকে বেঁধে রাখলেও কিছু মানুষরুপি শয়তান রয়েছে যারা সেই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আর এজন্য এই মানুষরুপি শয়তানদের থেকে দুরে থেকে রমজানের পূর্ণ রহমত বরকত হাসিল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করুণ।

অপর এক হাদীসে এসেছে-হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলার কসম! মুসলমানদের জন্য রমযানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমযান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস-৮৩৬৮, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস-৮৯৬৮, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস-১৮৮৪, তাবারানী হাদীস-৯০০৪, বাইহাকী শুয়াবুল ঈমান, হাদীস-৩৩৩৫